মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত এবং তর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নাম হলো ইরানের মিসাইল শক্তি। দশকের পর দশক ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞার শিকার হওয়া সত্ত্বেও ইরান কীভাবে আজ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মিসাইল ভাণ্ডারের অন্যতম মালিক হয়ে উঠল, তা এক বিস্ময়।
নিজেদের আকাশকে সুরক্ষিত রাখতে এবং শত্রুর বিমান বাহিনীর মোকাবিলা করতে ইরান যে ‘স্বাবলম্বিতা’ (Indigenization) অর্জন করেছে, তাকে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সফল রণকৌশল। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো পরাশক্তির তুলনায় ইরানের মিসাইল প্রযুক্তি অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় এবং আধুনিক।
এই আর্টিকেলে আমরা গভীর বিশ্লেষণ করব ইরানের হাতে থাকা সেইসব মরণাস্ত্র সম্পর্কে, যা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাপিয়ে বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
⚡ এক নজরে ইরানের মিসাইল রণকৌশল (Key Highlights)
- স্বদেশী প্রযুক্তি: ইরানের প্রায় সব আধুনিক মিসাইলই তাদের নিজেদের তৈরি, যা কোনো নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই অগ্রসর হয়েছে।
- বিশাল পাল্লা: ইরানের ২,৫০০ কিমি পাল্লার মিসাইলগুলো শুধু ইসরায়েল নয়, বরং দক্ষিণ ইউরোপ এবং দক্ষিণ এশিয়ার একটি বিশাল অংশেও আঘাত হানতে সক্ষম।
- ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল শহর’: ইরান মাটির নিচে শত শত ফুট গভীরে যে বিশাল মিসাইল ডিপো তৈরি করেছে, তাকে বলা হয় “মিসাইল সিটি”। এটি কোনো আকস্মিক বিমান হামলায় ধ্বংস করা অসম্ভব।
- সলিড ফুয়েল রেভল্যুশন: ইরানের নতুন প্রজন্মের মিসাইলগুলো কঠিন জ্বালানি(Solid Fuel) ব্যবহার করে, যা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়কে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক মিনিটে নামিয়ে এনেছে।
১. হাইপারসোনিক মিসাইল: গতির দুনিয়ায় ইরানের বিপ্লব
২০২৩ এবং ২০২৪ সালে ইরান যখন তাদের হাইপারসোনিক মিসাইল প্রকাশ্যে আনে, তখন পুরো বিশ্বের সামরিক বিশ্লেষকরা নড়েচড়ে বসেন। হাইপারসোনিক মানেই হলো যা শব্দের চেয়ে ৫ গুণ বেশি গতিতে চলে।
- ফাতাহ-১ (Fattah-1): ২০২৩ সালের জুনে এটি প্রকাশ্যে আনা হয়। এটি ইরানের প্রথম হাইপারসোনিক মিসাইল। এর গতি Mach 13 থেকে Mach 15 (ঘণ্টায় প্রায় ১৮,০০০ কিমি) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর পাল্লা প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার। এটি মূলত একটি দুই স্তরের সলিড-ফুয়েল প্রপালশন সিস্টেম ব্যবহার করে। এর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর Maneuverable Re-entry Vehicle (MaRV), যা বায়ুমণ্ডলের ভেতরে ও বাইরে উভয় স্থানেই গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। এর ফলে এটি ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’ বা ‘অ্যারো’র মতো অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দিতে সক্ষম।
- যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার: ২০২৪ সালের অক্টোবরে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ২’-এ এটি প্রথমবার সরাসরি ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনায় আঘাত আনতে ব্যবহৃত হয় এবং সফলভাবে ডিফেন্স সিস্টেম ভেদ করতে সক্ষম হয়।
ফাতাহ-১ (Fattah-1) হাইপারসোনিক মিসাইলের উন্মোচন অনুষ্ঠান
- ফাতাহ-২ (Fattah-2): এটি ফাতাহ-১ এর আরও উন্নত সংস্করণ, যা ২০২৩ সালের নভেম্বরে উন্মোচিত হয়। এতে Hypersonic Glide Vehicle (HGV) প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। এর গতি Mach 15 পর্যন্ত এবং পাল্লা প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার। ফাতাহ-২ এর দ্বিতীয় স্তরটি লিকুইড-ফুয়েলড ইঞ্জিন ব্যবহার করে, যা গ্লাইড করার সময় এটিকে আরও চটপটে এবং অনির্ণেয় পথে চলতে সাহায্য করে। এটি মূলত শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ডেড-জোন দিয়ে স্লাইড করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ডিজাইন করা হয়েছে।
- যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার: ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এ এটি ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান তার হাইপারসোনিক গ্লাইড প্রযুক্তির সক্ষমতা বিশ্বে জানান দেয়।
ফাতাহ-২ হাইপারসোনিক গ্লাইড ভেহিকেল
💡 আপনি কি জানতেন? ইরানের ফাতাহ মিসাইলটির নাম দিয়েছিলেন খোদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ‘ফাতাহ’ শব্দের অর্থ হলো বিজয়ী বা খোলার চাবিকাঠি।
২. ব্যালিস্টিক মিসাইল: যখন পাল্লা সীমানা ছাড়িয়ে যায়
ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো মূলত ইসরায়েল এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যে কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে।
খোররামশহর-৪ (Khorramshahr-4) বা খাইবার (Khaibar)
এটি ইরানের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ভারী এবং শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল। এটি ২,০০০ কিমি পাল্লার মধ্যে প্রায় ১,৫০০ থেকে ১,৮০০ কেজি ওজনের বিশাল বিস্ফোরক ওয়ারহেড বহন করতে পারে। এর শক্তিশালি ‘খাইবার’ সংস্করণটি লিকুইড-ফুয়েল চালিত হলেও এতে এমন উন্নত হাইপারগোলিক ফুয়েল ব্যবহার করা হয়েছে যা লঞ্চ করার প্রস্তুতি সময়কে মাত্র ১২ মিনিটে নামিয়ে এনেছে। এটি বায়ুমণ্ডলের বাইরে Mach 16 গতিতে চলে এবং এর উন্নত গাইডেন্স সিস্টেম এটিকে কক্ষপথের বাইরেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
- যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার: ২০২৫ সালের জুন মাসে সংঘটিত সংঘাতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এটি প্রথমবার মোতায়েন করা হয় এবং ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এ এর বিধ্বংসী উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
খোররামশহর-৪ (Khorramshahr-4) বা খাইবার (Khaibar)
সেজ্জিল (Sejjil-2)
সেজ্জিল হলো একটি দুই স্তরের কঠিন জ্বালানি (Solid-fuel) চালিত মিসাইল, যা ২০০৮ সালে প্রথম পরীক্ষা করা হয়। এর পাল্লা ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার এবং এটি প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহন করে। কঠিন জ্বালানি হওয়ার কারণে এটিকে লঞ্চার ট্রাক বা সাইলো থেকে অত্যন্ত দ্রুত ফায়ার করা যায়। এর গতি এবং নির্ভুলতা (CEP ৫-৫০ মিটার) একে ইরানের অন্যতম প্রধান স্ট্র্যাটেজিক মরণাস্ত্র করে তুলেছে।
- যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার: ২০২১ সালের ‘গ্রেট প্রফেট ১৫’ মহড়ায় এটি অসাধারণ সাফল্য দেখায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুন মাসে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৩’-এ ইসরায়েলি ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাতের জন্য ব্যবহৃত হয়।
সেজ্জিল (Sejjil-2)
এমাদ (Emad) ও গদর (Ghadr)
‘এমাদ’ হলো ইরানের প্রথম নির্ভুল লক্ষ্যভেদী (Precision-guided) দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল, যা ২০১৫ সালে উন্মোচিত হয়। এর রেঞ্জ প্রায় ১,৭০০-১,৮০০ কিমি। এটি শাহাব-৩ এর একটি উন্নত সংস্করণ। অন্যদিকে ‘গদর-১১০’ (Ghadr-110) হলো শাহাব-৩ এর একটি দ্রুততর সংস্করণ যা ১,৬০০ থেকে ২,০০০ কিলোমিটার পাল্লায় আঘাত করতে পারে।
- যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার: ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ১’-এ ইসরায়েলে চালানো ড্রোন ও মিসাইল হামলায় এমাদ এবং গদর মিসাইলগুলো বড় ভূমিকা পালন করে।
এমাদ (Emad)
গদর (Ghadr)
৩. স্বল্প পাল্লার ও নির্ভুল মিসাইল (SRBM)
ইরানের আদি মিসাইল প্রযুক্তি শাহাব সিরিজ থেকে শুরু হলেও বর্তমানে তারা অনেক বেশি নির্ভুল স্বল্প পাল্লার মিসাইল তৈরি করেছে।
- জোলফাগার (Zolfaghar): এটি ৭০০ কিমি পাল্লার একটি সলিড-ফুয়েল চালিত মিসাইল। এটি অত্যন্ত নির্ভুল এবং এর ওয়ারহেডটি মিসাইল বডি থেকে আলাদা হতে পারে, যা রাডার ফাঁকি দিতে সাহায্য করে।
- যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার: ২০১৭ সালে সিরিয়ার দেইর ইজ-জোরে আইএসআইএস (ISIS) এর বিরুদ্ধে এটি প্রথম ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানে জশ আল-আদল (Jaish al-Adl) এর আস্তানায় হামলায় এটি অংশ নেয়।
জোলফাগার (Zolfaghar)
- কিয়াম-১ (Qiam-1): এটি একটি ৭০০-৮০০ কিমি পাল্লার লিকুইড-ফুয়েল চালিত মিসাইল। এর বিশেষত্ব হলো এতে কোনো স্থিতিশীল ডানা বা ফিন (Fin) নেই, যার ফলে এটি উড্ডয়নের সময় খুব কম রাডার সিগনেচার তৈরি করে।
- যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার: ২০২০ সালে কাসেম সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরাকের আল-আসাদ মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় এটি ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২৪ সালেও সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের দমনে এর ব্যবহার দেখা গেছে।
কিয়াম-১ (Qiam-1)
- শাহাব-৩ (Shahab-3): এটি ইরানের মিসাইল ভাণ্ডারের ভিত্তি। ৮০০ থেকে ১,৩০০ কিমি পাল্লার এই মিসাইলটি উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ান স্কাড প্রযুক্তির সংমিশ্রণ। যদিও এটি পুরোনো, তবুও এটি এখনও অত্যন্ত কার্যকর।
- যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার: এটি ইরানের যেকোনো সামরিক অভিযানে ব্যাকআপ মিসাইল হিসেবে কাজ করে এবং প্রায় প্রতিটি বড় মহড়াতে এর সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে।
শাহাব-৩ (Shahab-3)
৪. ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল: রাডারের চোখের আড়ালে
ব্যালিস্টিক মিসাইল যেমন আকাশের অনেক উপর দিয়ে ওঠে, ক্রুজ মিসাইল ঠিক তার উল্টো। এটি মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে যায়।
- সুমার (Soumar): এটি একটি ভয়ংকর ল্যান্ড-অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল, যার পাল্লা ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার বলে ধারণা করা হয়। এটি সোভিয়েত Kh-55 প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে বানানো।
- যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার: ২০১৯ সালে সৌদি আরামকো তেল শোধনাগারে হামলায় এই মিসাইলের একটি ভার্সন (‘কুদস’) ব্যবহার করা হয় বলে ধারণা করা হয়, যা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত করেছিল।
- হোভেইজেহ (Hoveizeh): ২০১৯ সালে উন্মোচিত হওয়া এই ক্রুজ মিসাইলটির পাল্লা ১,৩৫০ কিলোমিটার। এটি অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে শত্রু রাডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারে।
- যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার: এটি মূলত ইরানের কৌশলগত প্রতিরোধের অংশ হিসেবে রেড সি এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে।
- আবু মাহদি (Abu Mahdi): এটি ১,০০০ কিমি পাল্লার একটি মেরিটাইম ক্রুজ মিসাইল, যা জাহাজ বিধ্বংসী হামলায় পারদর্শী।
- যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার: এটি নিয়মিতভাবে ইরানের নৌ-মহড়া এবং মেরিটাইম ডিফেন্স সিস্টেমে ব্যবহৃত হয়।
🛡️ ‘মিসাইল সিটি’ বা ভূগর্ভস্থ মিসাইল শহর: ইরানের গোপন শক্তি
ইরান একমাত্র দেশ যারা মাটির শত শত মিটার গভীরে বিশাল শহর আকৃতির মিসাইল বেস তৈরি করেছে। এর মধ্য দিয়ে বড় বড় মিসাইল বহনকারী ট্রাক নির্দ্বিধায় চলাচল করতে পারে। এমনকি পারমাণবিক হামলা হলেও এই সব বেস অক্ষত থাকবে বলে দাবি করা হয়।
মিসাইল সিটি
📌 বিশেষ নোট: এই প্রযুক্তি ইরান ও হিজবুল্লাহর মতো গ্রুপগুলোকে যুদ্ধে এক বাড়তি সুবিধা দেয়, কারণ ওপর থেকে স্যাটেলাইট বা ড্রোন দিয়ে এগুলো ধরা প্রায় অসম্ভব।
❓ সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. ইরানের মিসাইল কি আসলেই ইসরায়েলে আঘাত করতে সক্ষম?
হ্যাঁ। ইরান থেকে ইসরায়েলের সরাসরি দূরত্ব প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০ কিমি। ইরানের শাহাব-৩, সেজ্জিল এবং ফাতাহ মিসাইলগুলোর রেঞ্জ এই দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি।
২. কেন পশ্চিমারা ইরানের মিসাইল কর্মসূচি নিয়ে এত চিন্তিত?
কারণ ইরান তাদের মিসাইলগুলো শুধু নিজেদের জন্য তৈরি করছে না, বরং তারা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য মিত্রদেরও (যেমন হিজবুল্লাহ বা হুথি) এই প্রযুক্তি শেখাচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে।
৩. ইরানের মিসাইল প্রযুক্তির মূল উৎস কী?
এক সময় ইরান সোভিয়েত বা উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকলেও, বর্তমানের ফাতাহ বা খোররামশহর মিসাইলগুলো পুরোপুরি ইরানের নিজস্ব গবেষণার ফসল।